ArabicBengaliEnglishHindi

যৌন হয়রানি বন্ধে ডিএমপিতে নীতিমালা


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২২, ১০:৪৭ অপরাহ্ন / ৬৫
যৌন হয়রানি বন্ধে ডিএমপিতে নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক ->>
পুলিশের নারী সদস্যদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে ডিএমপিতে প্রণীত হলো ‘কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও যৌন নির্যাতন বন্ধে নীতিমালা ও কর্মপন্থা ২০২১’।

হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনার আলোকে পুলিশ সদর দপ্তরের গাইডলাইনস্ অনুসরণ করে এটি প্রণয়ন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হামিদা পারভীনের পরিকল্পনায় এই নীতিমালা ও কর্মপন্থা প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এটি প্রণয়ন করা হয়।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগর এলাকায় সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ ও তাদের অধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় ডিএমপি। তাদের প্রতি সব প্রকার সহিংসতা প্রতিরোধে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ এই ইউনিটে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি নারী সদস্য কর্মরত। জেন্ডার সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের জন্য নিরাপদ ও অধিকতর সহনশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিএমপি বদ্ধপরিকর।

মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, উচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া রিট পিটিশন ৫৯১৬/২০০৮-এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও যৌন নির্যাতন বন্ধে নীতিমালা ও কর্মপন্থা-২০২১’ প্রণয়নে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে প্রদত্ত গাইডলাইনস অনুসরণ করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব বিভাগে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এই নীতিমালা ও কর্মপন্থা প্রকাশনাকে আমি স্বাগত জানাই।

নীতিমালা ও কর্মপন্থা প্রণয়নের পটভূমি
কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে নারীর প্রতি যৌন হয়রানিমূলক ঘটনা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন ল’ইয়ারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনডব্লিএ) ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট হাইকোর্টে বিভাগে জনস্বার্থে রিট দায়ের করে। ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রায় ঘোষণা করেন।

এতে ১১টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশনার আলোকে ও সংবিধানের ১১১নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যতদিন পর্যন্ত এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন না হবে ততদিন সব সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে এ গাইডলাইনস অনুসরণ ও পালন বাধ্যতামূলক। এ নির্দেশনার আলোকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন সব কর্মক্ষেত্রে এটি প্রণয়ন করা হলো।

নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
এই নীতিমালা ও কর্মপন্থা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ডিএমপির আওতাভুক্ত বিভাগসমূহের সব পর্যায়ে কর্মরত নারী সদস্যদের কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি হতে সুরক্ষা প্রদান। এছাড়াও যৌন হয়রানি সম্পর্কে ডিএমপিতে কর্মরত পুলিশ সদস্যের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা।

অভিযোগ গ্রহণকারী কমিটি
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে একটি অভিযোগ গ্রহণকারী কমিটি গঠন করতে হবে। ডিএমপির জন্য কমিটির গঠনতন্ত্র হবে যেমন–

(ক) কেন্দ্রীয় অভিযোগ গ্রহণ কমিটি: অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান পরিচালনা এবং সুপারিশ করার জন্য জেন্ডার ব্যালেন্সের ভিত্তিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি ‘কেন্দ্রীয় অভিযোগ গ্রহণ কমিটি’ গঠন করা হবে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে থাকবেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন), সদস্য সচিব উপ-পুলিশ কমিশনার (উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন)। এছাড়াও সদস্য হিসেবে থাকবেন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন), বিভাগীয় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর) ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও জেন্ডার বিষয়ক এনজিও প্রতিনিধি।

(খ) বিভাগীয় অভিযোগ গ্রহণ কমিটি: কেন্দ্রীয় অভিযোগ গ্রহণ কমিটি ছাড়াও ডিএমপির আওতাধীন ৫৭টি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেন্ডার ব্যালেন্সের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করবে।

(গ) অ্যাডহক কমিটি: অভিযোগ গ্রহণ কমিটির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে ওই অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্ত সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন সদস্য করে ওই কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সভাপতি হবেন অভিযুক্ত ব্যক্তি অপেক্ষা ঊর্ধ্বতন পদে আসীন কোনো ব্যক্তি।