ArabicBengaliEnglishHindi

প্রেম-প্রলোভন-বিয়ে-হত্যাচেষ্টা-মামলা-গ্রেফতার অবশেষে অসহায় নারীর সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২২, ১০:০৬ অপরাহ্ন / ৭৪
প্রেম-প্রলোভন-বিয়ে-হত্যাচেষ্টা-মামলা-গ্রেফতার অবশেষে অসহায় নারীর সংবাদ সম্মেলন
এনামুল হক শামীম ->>
যৌতুকের জন্য শ্বশুর বাড়ীর লোকজন আমাকে সিগারেটের ছ্যাকা ও শরীরের গরম পানি ঢেলে দেয় এবং গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। মৃত ভেবে তারা আমাকে সড়কে ফেলে দেয়। পরে এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আমি কিছুটা সুস্থ হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করলে স্থানীয় সাভার পৌরসভার সাবেক ও বর্তমান দুই কাউন্সিলর আমাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন।
পুলিশ আমার দেয়া এজাহার পরিবর্তন করেছে। মামলা বানোয়াট এবং আমি ইচ্ছে করে আহত হয়েছি আদালতে এমন কথা বলতে পুলিশ ভয়ভীতি দেখায়। স্বামী ও তার পরিবার দু’বার আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করেছে। আদালত থেকে ফেরার পথে আমাকে চলন্ত বাসের মধ্যে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারী শনিবার স্বামী ও শশুর বাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন সাভার পৌর সভার গেন্ডার সচিব রোড মহল্লার নির্যাতিত গৃহবধূ শান্তা ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত গৃহবধূ জানান, ফেস বুকে তার স্বামীর সাথে পরিচয় ও পরবর্তীতে অনেক নাটকীয় ঘটনার পারে বিয়ে হয়েছিল। এখন তাকে হত্যার চেষ্টা করছে স্বামীর পরিবার। যেকোন সময় তাকে মেরে ফেলা হতে পারে। তিনি সন্ত্রাসী ও ধর্ষণকারিদের হাত থেকে রেহাই পেতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সাভার পৌর এলাকার মজিদপুর রোডের রংধনু রেস্তোরা মিলনায়তনে স্বামী ও তার আত্মীয় স্বজন কর্তৃক নারকীয় নির্যাতনের বর্ননা দেন গৃহবধু শান্তা ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতস্থান দেখান তিনি। যশোরের ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর খলিফাপাড়ার কাবুল মিয়ার কন্যা শান্তা ইসলাম জানান, ২০১৯ সালে স্বামী জহিরুল ইসলাম সাগরের সাথে তার প্রথমে ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেম হয়।
মিথ্যা আশ্বাস ও পরিচয়ে তার সাথে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরবর্তীতে তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে কাজী অফিসে নিয়ে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। একই দিন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজধানীর মহাখালীতে আরেক কাজী অফিসে নিয়ে ১ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধরে পুনরায় বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়ের পর স্বামী তাকে ঘরে তুলতে না চাইলে তার বাড়ীর সামনে পরপর ৩ দিন অনশনে বসেন শান্তা ইসলাম। পরবর্তীতে তৎকালীন সাভার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আয়নাল হক গেদুর অফিসে শালিশ বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসা হয়। মিমাংসায় শান্তাকে ঘরে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেন সাগরের পরিবার। কিন্তু নিজ বাসায় না তুলে স্ত্রীকে নিয়ে সাগর ধামরাইয়ে ভাড়া বাসায় উঠেন।
গৃহবধু শান্তা ইসলাম আরও জানান, তিনি ধামরাইয়ের স্নোটেক গার্মেন্ট কারখানায় চাকুরি নেন আর সাগর বাসে কন্ট্রাকটারি করেন। এদিকে একটি যাত্রীবাহী বাস ক্রয়ের জন্য সাগর ও তার পরিবার শান্তার নিকট যৌতুক ও বাসের শেয়ার হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বাবার বাড়ী ও আত্মীয় স্বজনদের নিকট হতে ১১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এনে দেন। ওই টাকায় ক্রয় করা বাস সেলফি পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১৭৪৭) ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচল করে। কিন্তু শেয়ার হিসেবে তাকে যে টাকা দেয়ার কথা তা কখনই দেয়নি সাগরের পরিবার। এ ছাড়া ধামরাইয়ের বাসায় এক বছরে তিনি দুইবার গর্ভবতী হন। দুইবারই তাকে স্বামী ও শশুরবাড়ীর লোকজন জোরপূর্বক গর্ভপাত করান। এ নিয়ে কথা বললে প্রায়ই তাকে প্রচন্ড মারধর করে অচেতন করে ফেলা হতো।
সংবাদ সম্মেলনে শান্তা ইসলাম জানান, গত ১২ ডিসেম্বর রাতে মিমাংসার কথা বলে ধামরাই হতে তাকে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন সাভারে স্বামীর বাড়ীতে নিয়ে আসেন। এ রাতে তাকে মেরে ফেলার জন্য শরীরে গরমপানি ও গায়ে সিগারেটের আগুন দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করা হয় এবং মুখে বিষ ঢেলে দেয়া হয়। মৃত ভেবে তাকে সড়কে ফেলে রাখা হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সে ভর্তি করে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের সহায়তায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার আসামী সাগরের পিতা নজরুল ইসলাম ও মা খুরশিদা বেগমকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, তার শ^শুর-শাশুড়ি গ্রেফতার হওয়ার পর তার স্বামী ও ভাসুরসহ মামলার অন্য আসামীগন তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। মামলা না তুললে হত্যার হুমকি প্রদান করে। তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই জাহিদ মামলাটি বানোয়াট ও তিনি নিজেই আহত হয়েছেন মর্মে আদালতে বক্তব্য পেশ করার জন্য বলেন এবং বাদিনীকে ভয় দেখান। মামলা রুজু হওয়ার পূর্বে এজাহার হতে মামলার অন্যতম আসামী জুলহাসকে বাদ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া গেন্ডা এলাকার বর্তমান ও সাবেক দুই কাউন্সিলর মামলা তুলে নিতে বাদীনিকে চাপ প্রয়োগ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন এক পর্যায়ে পুলিশ তার সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে শান্তার আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে ঢাকার এফডিসির চিত্র পরিচালক মাজহারুল ইসলাম খোকনের সাথে তার পরিচয় হয়। দয়া পরবশ হয়ে এ চিত্র পরিচালক গৃহবধু শান্তাকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান। তখন সেই বাসাতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার। মন্ত্রী তখন পুলিশ সুপারকে আসামীদের গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করলে পুলিশ পরদিন অভিযান চালিয়ে ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর হতে শান্তার স্বামী সাগরকে গ্রেফতার করে।
গৃহবধু শান্তা ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানান, স্বামীর পরিবারের পক্ষ হতে তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। সে মামলায় তারা লিখেছে আমার বিয়ের কাগজপত্র সবই ভুয়া ও বানোয়াট এবং তিনি তালাকপ্রাপ্ত। এ সংক্রান্ত নথি আদালত হতে উদ্ধার করে তিনি দেখতে পান তাকে ১ বছর পূর্বে তালাক দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তাহলে তালাক গোপন রেখে এক বছর ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং দুটি বাচ্চা নষ্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, মামলায় হাজিরা দিয়ে আদালত হতে ফেরার পথে বাসের মধ্যে একাধিক বার তাকে মেরে ফেলারও চেষ্টা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় নির্যাতিতা গৃহবধূ শান্তার সাথে ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক মাজহারুল ইসলাম খোকন।