ArabicBengaliEnglishHindi

পানি নেই টিউবওয়েলে ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২২, ৬:১২ অপরাহ্ন / ১০৭
পানি নেই টিউবওয়েলে ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ

শাহ আলম ->>

তাহিরপুরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। যারফলে নলকূপগুলোয় বা টিউবওয়েল দিয়ে আর পানি উঠছে না। এর ফলে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামে বিশুদ্ধ পানির চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের টিউবওয়েলগুলোতে পানি না ওঠায় । অনেকটা বাধ্য হয়ে স্থানীয় অনেকেই পুকুরের পানি ব্যবহার করছেন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর বলছে, অসংখ্য সাব-মার্সিবল পাম্প স্থাপন ও ফসলি জমিতে সেচ ও গভীর নলকূপগুলোর জন্যই মূলত পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় অগভীর টিউবওয়েলগুলোতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামার ফলে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট, কামড়াবন্দ, মোল্লাপাড়া, দীঘিরপাড়, সূন্দরপাহাড়ী, জামবাগ, ঘাগড়া, পাঠানপাড়া, ননাই, উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুলতলা, পৈলনপুর, খাসতাল, গুটিলা, মানিগাও সহ তাহিরপুর উপজেলা ৭ ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামেই বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও দীর্ঘক্ষণ টিউবওয়েলে চাপ দিয়েও মিলছে না পানি। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই পুকুরের ময়লা পানি ফুটিয়ে পান করছেন এবং ব্যবহার করছেন দৈনন্দিন কাজেও। অনেকেই আবার কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে ফসলি জমিতে সেচ ও গভীর নলকূপগুলোর পানি কাঁধে কিংবা মাথায় করে আবার অনেকেই ভাড়ায় টেলা গাড়ি নিয়ে আসছেন বিশুদ্ধ পানি। গত দুই মাস ধরে সাধারণ টিউবওয়েল গুলোতে পানি না ওঠায় পানি সংকটে কষ্ট করে আসছেন এ উপজেলার মানুষ।

উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নবী হোসেন (৪৫) জানান, পানির সংকট এখন আমাদের গ্রামেই না! ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই । এর আগে এরকম পানি উঠেনি । এ বছর গ্রামের প্রতিটি টিউবওয়েলই পানি না ওঠায় অকেজো। টিউবওয়েলের হাতল ধরে অনেকক্ষণ চাপাচাপি করলেও পানি আসে না। ঘন্টা খানেক চাপাচাপির পর হয়তো ১ গ্লাস পাওয়া যায়। পানির জন্য আমরা খুব কষ্ট করছি। আমাদের তো গভীর নলকূপ স্থাপনের সামর্থ্য নেই।

তাই উপজেলার সীমান্তবর্তী মাহারাম গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৩৯) জানান, সীমান্তবর্তী ও টিলা হওয়ায় আমাদের তো পানির অভাব সারা বছরেই। কিন্তু শুখনা এর অভাব আরও বেশি। মাস খানেক ধরে কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। এমনকি ধানের জমিতে দেয়ার মেশিনেও পানি উঠছে না। তাই জাদুকাটা নদীর পানিই এনে খাইতাছি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা নানান রোগ-বালাইয়ে পড়ব।

উপজেলার খাসতাল গ্রামের সাংবাদিক শাহ আলম ও শাহজাহান বলেন, এ বছরের মতো আর কখনো পানি সংকটে পড়িনি। তাই বাধ্য হয়েই এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি খাই এবং খরচ করছি।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপন করা ২৫০ ফুট গভীর নলকূপগুলো থেকে পানি উঠছে না। সরকারিভাবে স্থাপন করা গভীর তারা পাম্পগুলোতে পানি উঠছে। সাধারণত শুকনো মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। তাই তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে টিউবওয়েলগুলোতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। টিউবওয়েলে পানি না আসার বিষয়টি আমরা জানার পর উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে এর সমাধানের জন্য কথা বলেছি। আমরা বিষয়টি উপর মহলেও অবহিত করেছি। বিশুদ্ধ পানি সংকট সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। অসংখ্য সাব-মার্সিবল পাম্প স্থাপন ও ফসলি জমিতে সেচ ও গভীর

নলকূপগুলোর জন্যই মূলত পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় অগভীর টিউবওয়েলগুলোতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সংকট সমস্যার সমাধানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।