ArabicBengaliEnglishHindi

নোয়াখালীতে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টায় শ্লীতাহানি, ২০ হাজার টাকায় ধামাছাপা


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৯, ২০২২, ৬:১০ অপরাহ্ন / ৯৭
নোয়াখালীতে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টায় শ্লীতাহানি, ২০ হাজার টাকায় ধামাছাপা

মো: সেলিম, নোয়াখালী প্রতিনিধি ->>

নোয়াখালীর সদর উপজেলার অশ^দিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড (পশ্চিম অশ^দিয়া) গ্রামে শাহীনুর আক্তার (বিজলী) (১২) নামের ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে দর্ষণের চেষ্টায় শ্লীতাহানির অভিযোগ উঠেছে মো: জসিম (৬০) নামের এক বয়স্ক লোকের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি জানাযানি হলে এলাকার যুবলীগ নেতা খায়রুল্যা (উকিল) সহ কথিত শালিসদাররা ভিকটিমের পরিবারকে ভয়ভিতি দেখিয়ে ষ্ট্যাম্পে দস্তখত নিয়ে মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে ঘটনার ধামাছাপা দিয়েছে বলে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল (বুধবার) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভিকটিম ইফতারের জন্য স্থানীয় মৌলভী বাজারে আসে। বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাঝামাঝি জমিনের মধ্যে নাতিন বলে ভিকটিমের পিঠে ও বুকে হাত দিয়ে পাশের নির্ঝন জায়গায় যাওয়ার জন্য জোর করে অভিযুক্ত জসিম। পরে মেয়েটি ভয়ে দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে কান্নারত অবস্থায় তার মাকে ঘটনাটি খুলে বলে।

এর পর ভিকটিমের মা তার মামা রাশেদকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাড়িতে ডেকে আনেন। তার পর বিস্তারিত শুরন রাশেদ বিষয়টি সমাজ কমিটিকে অবগত করলে অভিযুক্ত জসিম প্রাথমিক ভাবে ভিকটিমের গায়ে হাত দেওয়ার কথা শিকার করলেও ধর্ষণ চেষ্টার কথা অস্বীকার করেন।

এর পর থেকে শুরু হয় ভিকটিমের পরিবারকে হুমকি ধমকি দেওয়া এবং কোন প্রকার মামলা না করারও হুমকি দেন এলাকার কথিত শালিসদাররা।

দীর্ঘ ৪দিন ভয়ভীতি দেখিয়ে গত ১৬ এপ্রিল শালিসী বৈঠকের নাম করে ভিকটিমের পরিবার থেকে ৫০ টাকার ষ্ট্যাম্পে দস্তখত নেন শালিসদার যুবলীগ নেতা খাইরুল্যা (উকিল) এবং অন্যান্য শালিসদাররা। পরে গত ১৭ এপ্রিল রাতে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাছাপা দেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে খাইরুল্যা (উকিল) জানান, এটি একটি তুচ্ছ ঘটনা। মেয়েটি তার নাতিন হয়। নাতিন হিসেবে গায়ে হাত দিয়েছে। আমরা শালীসি বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ থেকে ষ্ট্যাম্প নিয়ে ২০হাজার টাকা জরিমানা করে সমাধান করে দিয়েছি। এটা নিয়ে আর কি হবে।

ভিকটিমের মামা মো: রাসেদ মুঠোফোনে জানান, ঘটনাটি নিয়ে খুব চাপে ছিলাম যারকারণে তারা আমার কাছ থেকে ষ্ট্যাম্পে দস্তখত নিয়ে শালিসী বৈঠক বসে। খাইরুল্যা (উকিল) এর নেতৃত্যে ২০হাজার টাকা দিয়ে ঘটনার বিষয়ে আর কোন কথা না বলার জন্য নির্দেশ দেন।

ঘটনার বিষয় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন সুমন জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। আমি তাদেরকে বলেছি থানায় গিয়ে অভিযোগ দেওয়ার জন্য। কি কারণে তারা থানায় যায়নি তা আমি জানিনা। পরে শুনেছি গত ১৭ এপ্রিল রাতে শালিসী বৈঠকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটির সমাদান করা হয়েছে। এধরণের ঘটনা কোন শালিসী বৈঠকে সমাদান করা যায় কিনা তা আমার জানা নেই।