ArabicBengaliEnglishHindi

নাঙ্গলকোটে অনুমোদনহীন অবৈধ ট্রাকলরিতে সিএনজি গ্যাস বিক্রয়


প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২২, ৮:৪৫ অপরাহ্ন / ৯০
নাঙ্গলকোটে অনুমোদনহীন অবৈধ ট্রাকলরিতে সিএনজি গ্যাস বিক্রয়

কুমিল্লা প্রতিনিধি ->>

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বেআইনী ভাবে ট্রাকে রক্ষিত ক্যাসকেড ষ্টোরেজে গুচ্ছ সিলিন্ডার থেকে নজেলের মাধ্যমে ঝুকিপূর্ণ ভাবে সিএনজিতে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে।

স্বরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,নাঙ্গলকোট উপজেলার পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের ২০০ ফিট দক্ষিণে নাঙ্গলকোট পৌর মেয়রের নতুন বাড়িতে মোঃ খোরশেদ আলমের নেত্রীত্তে একটি লরিট্রাক এবং একই উপজেলার ঢালুয়া বাজার স্কুলের দক্ষিণ পাশে আঃ মালেকের নেত্রীত্তে একটি লরি ট্রাক সকাল থেকে রাত 11 টা পর্যন্ত বেআইনিভাবে গ্যাস বিক্রি করছে। অনুমোদনহীন এসব ভ্রাম্মামান ট্রাকের নেই ফিটনেস, বিস্ফোরক লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন কিংবা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন। তাই নয় এসব লরি ট্রাক এর ভেতর ৬০ থেকে ১৫০টি গুচ্ছ সিলিন্ডার থাকে। সেগুলোর কোনো ফিটনেস না থাকায় যেকোনো সময় বিস্ফোরণ হয়ে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। চোখের পলকে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে পৌরশহর সহ কয়েকটি গ্রাম এবং ঢালুয়া বাজার সহ আশপাশের গ্রাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

নাঙ্গলকোটে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন না থাকায় অত্র এলাকা এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। তার উপর এমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কষ্টসাধ্য হবে বলে মনে করে এলাকার সাধারণ মানুষ।

জানাযায় গত ১৩ ইং জানুয়ারি ২০২২ তারিখে নাঙ্গলকোট উপজেলার বিরুলি গ্রামে একটি বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে একজন মৃত ১৭ জন আহত হয়। আর এই ঘটনার পরও আমাদের উপজেলা প্রশাসন কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির আড়ালে কিভাবে একই উপজেলার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন অবৈধ ব্যবসা করে যাচ্ছে বছরের পর বছর প্রশ্ন থেকে যায়।

বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী একটি এলপিজি সিলিন্ডার এর উচ্চচাপ বা প্রেসার থাকে ৭৫পিএসআই, বা (৫.৫ ভার)।অপরদিকে একটি সিএনজি সিলিন্ডারের উচ্চচাপ বা প্রেসার থাকে ৩০০০ পিএসআই বা (২২০ভার)।এতেই বোঝা যায় একটি এলপিজি সিলিন্ডার থেকে একটি সিএনজি সিলিন্ডার কত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। আইনে বলা আছে কেউ এসব গ্যাস গাড়ি কিংবা গুচ্ছ সিলিন্ডারে সংরক্ষণ বা বিক্রি করলে বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর ৭(১) ধারা অনুযায়ী সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) বিধিমালা ২০০৫ এর বিধি ১০০ অনুসারে আটক এবং১০৪ অনুসারে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা যাবে।
অথচ এই আইন সম্পর্কে মানুষের ধারনা না থাকায় বেপরোয়া ভাবে বাড়ছে এসব অবৈধ ব্যাবসা।

স্বরজমিনে গিয়ে জানা যায় এসব অবৈধ সিএনজি ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে কিছু সিএনজি স্টেশন মালিকরা। গত১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২১ইং গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিক্তিতে ফেনীর দেবীপুর এলাকার “প্রাইম সিএনজি” স্টেশনে অভিযান চালায় র্যাব ১১ এর উপপরিচালক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন। এসময় সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে মিটার বিহীন অবস্থায় অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির দায়ে ১৭ জনকে আটক করেছে র্যাব সাথে জব্দ করেছে অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহকৃত ৫টি কাভার্ড ভ্যান ও ৬০২ গুচ্ছ সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল।

সেখানে আটক হয় ডালুয়া বাজারের অবৈধ লরিট্রাক (মর্তুজা ট্রান্সপোর্ট) গাড়িটি সাথে চালক নাঙ্গলকোট থানার মদনপুর গ্রামের মৃত আবু বক্করের ছেলে মোঃসোহাগ (৪১) এবং সারদাতলী গ্রামের আঃমালেকের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম (২৭)কে , তাদের বিরুদ্দে মামলা হয় ফেনী মডেল থানায়।

অথচ আইনের ফাঁক ফোকরে তারা জেল থেকে বের হয়ে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে এখন অবৈধ ব্যবসার প্রচার প্রসার বাড়াচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের মাসিক মাসোহারা দিয়ে ম্যানেজ করে তাদের ব্যবসা করছেন বলে জানান তারা।
এবিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিত এবং মোখিক ভাবে অবহিত করে কোন প্রকার ব্যাবস্থা গ্রহন না করায় ক্ষোভ জানিয়েছে অনেকেই।
ঢালুয়া বাজারের লরিট্রাকের পরিচালক আঃ মালেকের কাছে অবৈধ গ্যাসের গাড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রসাশন এবং সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেই ব্যাবসা চালাচ্ছি, তাছাড়া আমিতো একা নই।এই ব্যাবসার সাথে আমরা পাচঁ জন আছি। নাঙ্গলকোটের ট্রাকলরির পরিচালক খোরশেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাতো আমি পরিচালনা করিনা, এটা মেয়র সাহেবের তত্বাবধানে চলে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লামিয়া সাইফুল বলেন,ঢালুয়া বাজারের লরিগাড়িটির ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নাঙ্গলকোটের অভিযোগটি পেয়েছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মেয়র সাহেব এটা বন্ধ করে দিবেন।

এভাবে চলতে থাকলে নাঙ্গলকোট উপজেলা এবং ঢালুয়া বাসি যে কোন সময় পড়তে পারে দুর্ঘটনার কবলে, ঘটতে পারে ২৩শে ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখে বিস্ফোরিত ঢাকা চকবাজার ট্রাজেডির মত আরেকটি দুর্ঘটনা। তাই এসব অবৈধ ট্রাক-লরির মাধ্যমে ভ্রাম্যমান গ্যাস বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় এলাকার সচেতন মহল।