ArabicBengaliEnglishHindi

জামালপুরে ৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গোল বেগুন চাষ


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৬, ২০২২, ২:৪৪ অপরাহ্ন / ২৫৮
জামালপুরে ৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গোল বেগুন চাষ

এমরান হোসেন, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ->>
চলতি বছর জামালপুরে গোল বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। লাভজনক ও সুস্বাদু হওয়ায় দিন দিন গোল বেগুনের চাহিদা যেমন বেড়েছে তেমনি আবাদও বেড়েছে দ্বিগুণ। জেলায় ৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গোল বেগুন চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জামালপুর জেলার ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ এবং সদর উপজেলার লক্ষীরচর, তুলশীপুর, নরুন্দি, ইটাইল, হাজীপুরের চরাঞ্চলে গোল বেগুনের ব্যাপক চাষ করা হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন গোল বেগুন চাষে। চলতি বছর শীতের শুরু থেকেই গোল বেগুন বাজারে উঠছে। দামও ভালো পেয়েছেন কৃষকরা। প্রতিমণ গোল বেগুন বিক্রি হয়েছে ২ হাজার থেকে ২৫’শ টাকায়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা গোল বেগুন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্য বেগুনের চাহিদার চেয়ে গোল বেগুনের দাম সবসময়ই বেশি।

সরিষাবাড়ি উপজেলার আওনা ইউনিয়নের কুলপাল চরের গোল বেগুন চাষী ইলিয়াস জানান, চলতি বছর বেগুনের ফলন ভালো হয়েছে। শুরুতে দাম বেশি হলেও বর্তমানে বাজার অর্ধেকে নেমে এসেছে। তারপরও আশা করছি দ্বিগুন লাভ হবে।

সদর উপজেলার তুলশীচর এলাকার বেগুন চাষী ছাত্তার মিয়া বলেন, তেল, সার ও কিটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় বেগুন চাষে খরচও বেশি হয়েছে। তারপরও শুরুতে দাম বেশি থাকায় খরচ উঠেছে। এখন দাম কম হলেও প্রায় ডাবল লাভ হবে।

জামালপুর পৌর এলাকার বেলটিয়া বাজারের তরকারি বিক্রেতা জুয়েল মিয়া বলেন, অন্য বেগুনের চেয়ে গোল বেগুনে ক্রেতার আগ্রহ বেশি। এছাড়া গোল বেগুনের চাহিদা সারা বছরই থাকে। তাই দোকানে অন্য বেগুন না রাখলেও ক্রেতার ব্যাপক চাহিদার জন্য গোল বেগুন রাখতে হয়। তিনি প্রতিদিন ২ থেকে ৩ মণ গোল বেগুন বিক্রি করেন।

সরিষাবাড়ী শিমলা বাজারের তরকারি ব্যবসায়ি নুরু বলেন, অন্য বেগুনের চেয়ে গোল বেগুন বেশি বিক্রি হয়। প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় মণ গোল বেগুন বিক্রি হয়।

ঢাকা থেকে আসা বেগুনের পাইকার ছবুর মন্ডল বলেন, ঢাকাতে গোল বেগুনের চাহিদা ব্যাপক। জামালপুরে গোল বেগুনের চাষ বেশি হওয়ায় সপ্তাহে ২/৩ বার আসি বেগুন কিনতে। এ বেগুনের চাহিদা সারাবছরই থাকে।

চাষী মুকুল মিয়া বললেন, প্রথম প্রথম ক্ষেত থেকেই খুচরা পাইকারগণ তাদের চাহিদা মতো গোল বেগুন কিনে নিতেন। এখন আমদানি বেশি হবার ফলে বাজারে নিতে হয়। বাজারে অন্য বেগুনের দিকে পাইকারদের নজর না থাকলেও গোল বেগুন ক্রেতা বিক্রেতা দুজনকেই আকৃষ্ট করে রাখে।

তিনি আরো জানান, প্রতি বছরের মতো এ বছরও দেড় বিঘা জমিতে গোল বেগুনের চাষ করেছেন। যতদিন পর্যন্ত সার, পানি দেয়া যাবে ততদিন বেগুনের ফলন আসবে।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিতাই চন্দ্র বণিক বলেন, চলতি বছর জেলায় ১৭ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে শাক সবজির চাষ হয়েছে। এরমধ্যে শুধু গোল বেগুনই চাষ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় জেলার সাতটি উপজেলাতেই কম বেশি গোল বেগুনের চাষ হচ্ছে। এতে অন্যান্য সবজি বা ফসলের চেয়ে লাভও বেশি পাচ্ছে কৃষকরা। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে গোল বেগুন চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।