ArabicBengaliEnglishHindi

চৌগাছার সাহিত্যের কাণ্ডারী


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৩, ২০২২, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন / ২২৮
চৌগাছার সাহিত্যের কাণ্ডারী
-আবু জাফর বিশ্বাস
‘এম, আহমদ আলী’ সাহিত্যরত্ন! যিঁনি ছিলেন একজন কবি-সাহিত্যিক, সমাজসেবক, নির্ভীক সাংবাদিক এমন বহুগুণে গুণান্বিত, চৌগাছা তথা গোটা যশোর জেলার আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর। তাঁর সাহিত্য জগতকে বিকশিত ও প্রসারিত করার জন্য তৎকালিন সময়ে একই সাথে যারা কাজ করেছেন; যাঁদের ক্ষুরধার লিখনীতে উঠে এসেছে সমাজের বাস্তব চিত্র, দূর হয়েছে কলুষিত, সাহিত্য হয়েছে আলোকিত, যাঁদের নাম প্রথমেই স্মরণ করতে হয়, তাঁরা হলেন- ওয়াহেদ আলী আনসারি, ওসমান গণী, সাংবাদিক ও সাবেক চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান আতিউর রহমান, ডাঃ সিরাজুল ইসলাম, দেওয়ান আমজাদ হোসেন, এমন অনেক গুণীজন। বর্তমান তাঁরই উত্তরসূরি, অনেক গুণের অধিকারী, ভবিষ্যৎ কর্ণধার, মিষ্টভাষী, সদালাপী, পরিশ্রমী, সাহিত্যপ্রেমী, সংগঠক ও সাংবাদিক আমাদের সকলের প্রিয় ‘এম হাসান মাহমুদ’। তার দাদার রেখে যাওয়া পথের অনুসারী এবং এলাকায় আলোকিত মানুষ তৈরি ও সাহিত্য চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ১৯৯১সালে তার দাদার মৃত্যুর পর ওই বছরেই চৌগাছায় ‘এম আহমদ আলী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ’ গঠন করেন। আমরা সবাই একজন সচেতন এবং সাহিত্য অনুরাগী হিসাবে তার আহবানে সাড়া দিয়ে ‘এম আহমদ আলী’ সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে আমরা নিয়মিত সাহিত্য চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করি।
আমাদের হৃদয়ে মাতৃভাষা, বাংলা সাহিত্যের প্রতি অপরিসীম মমত্ববোধ ও মাতৃভূমিকে ভালোবেসে আমাদের সৃজনশীল, মননশীল, মুক্ত চিন্তা, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাহিত্য চর্চা করে যাবো। বিশেষকরে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের দায় ও দায়িত্ব অনেক, তাই আমাদের চৌগাছার ইতিহাস-ঐতিহ্য রূপবৈচিত্র, নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি ও আলোকিত মহৎ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে লেখালেখি করার চেষ্টা করবো এবং চৌগাছার সার্বিক উন্নয়ন উন্নতি অগ্রগতি, অসংগতি, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে আমদের লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আর সেই লক্ষে আপনারা জানেন চৌগাছা থেকে ইতোমধ্যে আরো দুইটি পত্রিকা প্রকাশনার কাজ শুরু করা হয়েছে। চৌগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, কবি ও সাংবাদিক শাহানুর আলম উজ্জ্বল সম্পাদনায় চৌগাছা প্রেসক্লাব এর গণমাধ্যম প্রকাশনা “রণাঙ্গন” ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাষ্ট চৌগাছা শাখা কমিটির সভাপতি, সাংবাদিক অধ্যক্ষ মোঃ শিহাব উদ্দিন সম্পাদনায় “যশোর বার্তা”। এছাড়া অনেক আগে থেকেই প্রকাশ হয়ে আসছে- এম মুজাহিদ আলী সম্পাদনায় “কপোতাক্ষ গেজেট”। লেখক ও সাংবাদিক মাসুদ পারভেজ সম্পাদনায় “যশোার গেজেট” ও “আমাদের চৌগাছা”। প্রকাশ হয়েছে সাংবাদিক এম হাসান মাহমুদের সম্পাদনায় এম আহমদ আলী সাহিত্যরত্ন সংকলন “নিভৃতচারী”।পত্রিকাগুলো প্রকাশের এ দুরূহ কাজটি করার পিছনে যাঁরা নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন; তাদের প্রতি রইল প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
প্রসঙ্গত আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি- সাহিত্যপ্রেমী জ্ঞানপিপাসু মানুষগুলো আলোকিত ও সুন্দর মনের হয়, তাই সাহিত্য চর্চায় সবাইকে একত্রিত করার জন্য আমি নিজেও একটি অনলাইন সাহিত্য গোষ্ঠী “সৃষ্টিশীল সাহিত্য অঙ্গন” এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও আরো ২টি সাহিত্য গোষ্ঠীর এডমিন ও উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্বে আছি। এছাড়া বাংলার কবিতা ওয়েভ পোর্টাল সংগঠনে যশোর জেলা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেছি। ওই পেজে রেজিস্ট্রেশন করে অনেকেরই লেখালেখির সাথে সংযুক্ত করেছি। প্রকাশ হয়েছে নিয়মিত ত্রৈমাসিক ‘বাংলার কবিতাপত্র’। আমি নিজেও বাংলার কবিতা ওয়েবসাইটে ৪৩৫টি কবিতা প্রকাশ করেছি। লেখালেখিতে পুরস্কার পেয়েছি ‘কলম সৈনিক’ ও ‘কাব্যজ্যোতি’ সহ ১১টি সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট)। এছাড়া বিভিন্ন সাহিত্য গোষ্ঠী থেকে পেয়েছি অসংখ্য সম্মাননাপত্র।
আমাদের চৌগাছাতেও ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে সবাইকে নিয়ে চৌগাছা উপজেলা ‘সাহিত্য পরিষদ’ গঠন করে আমি তার সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। আয়োজন করেছি নিয়মিত সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক কবি আড্ডা। তাই একজন সংগঠক হিসাবে চৌগাছায় সাহিত্য পরিষদ আরো কার্যকরী গতিশীল ও চলমান রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করি। আমরা চৌগাছাতে এই সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে খুঁজে পেয়েছি বেশ ক’জন নব্যলেখক। তাদের সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত ও বিকশিত করার লক্ষে প্রকাশ হচ্ছে তাদের লেখা, তাই উৎসাহিত হয়ে নিয়মিত সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে করে চলেছেন তাদের অনবদ্য সব সৃষ্টি। আর আমাদের মধ্যে অনেক গুণীজন আছেন, যাদের জাদুময় লেখনী পড়ে আমরা মুগ্ধ হই, তাদের অনুপ্রেরণায় ও সান্নিধ্যে আমরা সবসময় উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকি এবং ঋদ্ধ ও গর্ববোধ করি। তন্মধ্যে যাঁদের নাম কৃতজ্ঞচিত্তে না বললেই নয়, তাঁরা হলেন- সাবেক অধ্যক্ষ জাহিদুর রহমান (বকুল), অধ্যাপক আব্দুস সালাম, সহকারী অধ্যাপক (অব) আনন্দ মোহন বিশ্বাস, চৌগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর মতিন চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক ও সাংবাদিক মোঃ ইয়াকুব আলী।
চৌগাছাতে যাদের সৃজনশীল লিখনীতে প্রায় প্রতি বছরই বই প্রকাশ হয়ে আসছে এমন গুণীজনের মধ্যে প্রথমেই বলতে পারি আমাদের শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্যার, যিনি প্রকাশ করেছেন ১২টি একক কাব্যগ্রন্থ। কবি শাহানুর আলম উজ্জ্বল প্রকাশ করেছেন ৬টি একক কাব্যগ্রন্থ। কবি শেখ মাফিজুল ইসলাম ২টি একক কাব্যগ্রন্থ, কবি খলিলুর রহমান ৪টি, কবি মুন্সী সাগর ২টি একক কাব্যগ্রন্থ ও মিজানুর রহমান ১টি ‘তরিকত দর্শন’। আমি নিজেও প্রকাশ করেছি ‘একমুঠো স্বপ্ন’ নামে একটি একক কাব্যগ্রন্থ, ‘চেতনায় চৌকশ’ নামে চৌগাছা থেকে আমি সহ চার জনের কাব্যগ্রন্থ, আমার সম্পাদিত ‘সৃষ্টির সন্ধানে’ নামে শুধু চৌগাছা থেকে ২২জনের সম্মিলিত কাব্যগ্রন্থ এবং সারাদেশের অনেক গুণীজনের সাথে প্রকাশ হয়েছে ৫০খানা মত গল্প ও কাব্য সংকলন। আমি চাই কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক আমরা সবাই এভাবে একই প্লাটফর্মে এসে; দলমত নির্বিশেষে, সাহিত্যের কাণ্ডারী ও সাহিত্যপ্রেমী হিসাবে এধারাকে চলমান রাখবো। আমাদের বন্ধনকে দৃঢ় করার ক্ষেত্রে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে এবং আপনারা সবাই এভাবেই পাশে থেকে; সুস্থ্যধারার সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে, বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে আরো সম্মৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, এমনটাই আমার প্রত্যাশা।
—————————–
-আবু জাফর বিশ্বাস, কবি, লেখক ও সংগঠক।