ArabicBengaliEnglishHindi

গাজীপুর নকরেক আইটির ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক কর্মশালা ও পিকনিক অনুষ্ঠিত


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২২, ৭:৪৮ অপরাহ্ন / ৭৩১
গাজীপুর নকরেক আইটির ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক কর্মশালা ও পিকনিক অনুষ্ঠিত

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি ->>

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের জামালপুরে শাহীনবাগ রিসোর্টে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০ টার সময় নকরেক আইটি ফ্যামিলি, গাজীপুর শাখার আয়োজনে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মসজিদ নির্মাণ কাজে আর্থিক সাহায্যের আবেদন

 

গাজীপুর নকরেক আইটি শাখার কো-অর্ডিনেটর প্রমীর বর্মণ প্রশান্তের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নকরেক আইটির কর্ণধার ও সিইও সুবীর নকরেক। তিনি বলেন, নকরেক আইটি ইনস্টিটিউট একটি বিশস্ত ফ্রিল্যান্সিং শেখার প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে এই ৫ বছরে আমাদের প্রতিষ্ঠান অনেক দ্রুত এগিয়ে গিয়েছে। তিনি ফ্রিল্যান্সিং যখন শুরু করেন তখন শুরুটা অনেক কঠিন ছিল।

সেই মধুপুর বনের মধ্যে গায়রা নামক গ্রাম থেকে তার ফ্রিল্যান্সিং যাত্রা শুরু। যেখানে ইন্টারনেট ছিল ধীরগতি। উচু গাছে ইন্টারনেট মডেম রেখে কাজ করতে হতো। বর্তমানে সরকার প্রায় সব জায়গায়তেই উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট পৌছে দিয়েছেন।

সুবীর বলেন, যখন তিনি একা কাজ সামাল দিতে পারতেছিলেন না তখন তরুনদের প্রশিক্ষন দিয়ে তার সাথে কাজ করাতেন আর তারা কাজ শিখে নিজেদের মতো কাজ করতে শুরু করতেন, এতে অনুপ্রেরণা পেয়ে সবাই যাতে কাজ শিখতে পারে তার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান দরকার আর সেই ভাবনা থেকে এই নকরেক আইটি ইনস্টিটিউটের জন্ম।

‘তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৪৫টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর যাঁরা অবহেলিত, তাঁদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন।’ এসব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন গারো, চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, সাঁওতাল, রাজবংশী, বর্মণ, কোচ, ওঁরাও, ত্রিপুরা, পাংখো, রাখাইন, খাসি, হাজং, বম ও ম্রো। তিনি নিজ গ্রামের তরুণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশায় যুক্তদের বোঝাতে শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি। কী কাজ কীভাবে করলে অর্থ আয় করা যায়, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সে ব্যাপারে ধারণা দিতে শুরু করেন। তারপর আশপাশের গ্রামগুলোতে গিয়ে বিনা মূল্যে সেমিনার ও সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দিলেন।

 

মসজিদ নির্মাণ কাজে আর্থিক সাহায্যের আবেদন

 

তখন আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে দেড় বছরে সুবীরের আয় হয়েছিল ১১ হাজার মার্কিন ডলারের মতো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা)। তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমি পাঁচ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।’ যারা আজ বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছে। তারা নিজেরা স্বনির্ভর হচ্ছেন সাথে বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে দাড় করাচ্ছেন।

বর্তমানে ঢাকার বারিধারা, ময়মনসিংহের কাঁচিঝুলি, গাজীপুরের ফুলবাড়িয়া ও জামালপুরের নান্দিনায় নকরেক আইটি ইনস্টিটিউটের চারটি শাখায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইনে সারা দেশ থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা নকরেক আইটির ক্লাস করেন। ২২টি দেশ থেকেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, নকরেক আইটি প্রতিষ্ঠানের কোর্সসমূহ হলো- গ্রাফিক ডিজাইন উইথ ফ্রিল্যান্সিং, ভিডিও এডিটিং উইথ ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং উইথ ফ্রিল্যান্সিং, ওয়েব ডিজাইন উইথ ফ্রিল্যান্সিং সহ আরো আনেক কোর্স। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, মধুপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ক্যাম্পাসের শিক্ষকবৃন্দ ও প্রশিক্ষণার্থীরা।