ArabicBengaliEnglishHindi

কবিরহাটে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, ৯৯৯ কল করে রক্ষা


প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২২, ৭:০৫ অপরাহ্ন / ২৯
কবিরহাটে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, ৯৯৯ কল করে রক্ষা

নোয়াখালী প্রতিনিধি ->>

নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের সুন্দলপুর গ্রামে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরধরে বসতঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বেলা ১১টার দিকে সুন্দলপুর গ্রামের মাকু চৌধুরীর বাড়িতে এ হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

সরজমিনে গিয়ে একই বাড়ির মৃত আবুল হাসেম চৌধুরীর পুত্র রফিক উদ্দিন চৌধুরী টিটু তার পত্তিক বিটিতে একটি ভবন নির্মাণ করে। তার পাশ দিয়ে একই বাড়ির মাকু চৌধুরীর পুত্র মাহবুল হক চৌধুরী গংদের চলাচলের জন্য প্রায় ৫ফুট পথ থাকা সত্ত্বেও অনৈতিক দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত টিটু চৌধুরী গংদের সাথে বিরোধ করে আসছে তারা। একই বিরোাধ এর জেরধরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে টিটু চৌধুরী বসত বিল্ডিং এর বেলকুনি (বারেন্দা) ভেঙে গুড়িয়ে দেয় তারা। এমনকি নতুন ঘরের জানালা থাই গ্লাস ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা। এমতবস্থায় ঘরের ভিতরে থাকা টিটু চৌধুরীর স্ত্রী মমোতাজ আক্তার কাকুলি এসব সন্ত্রাসী কান্ডের ভিডিও ধারণ করতে গেলে ঘরের ভিতরে সন্ত্রাসীরা অনাধিকার প্রবেশ করে গৃহবধূ কাকলির উপর হামলা চালিয়ে তার মোবাইল, গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও বিল্ডিং এর চলমান কাজের জন্য জমানো অর্থ প্রায় ৭০/৮০হাজার টাকা তাদের ড্রয়ার থেকে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এসময় তার শোর চিৎকারে আশপাশের লোক ছুটে এসে দ্রুত ৯৯৯ এ কল দিলে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ২জন সন্ত্রাসীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে ভুক্তভোগী টিটু চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে আমার জন্য বিচার দিছে, চেয়ারম্যান আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমার বিল্ডিং ভাংগার বিষয়ে চেয়ারম্যান যখন বারন করেছে তাই তারা আজকে লোকজন এনে আমার নতুন বিল্ডিংয়ের বারেন্দা ও জানাালা ভেঙ্গে পেলছে। তারা পরে আমার বউয়ের হাত থেকে ফোন নিয়ে গেছে। আমার ঘরের টিভিসহ অনেক কিছু ভেঙ্গে পেলছে।

টিটুর স্ত্রী মমোতাজ আক্তার কাকুলি জানান, আমাদের বাড়িতে ভাড়াটিয়া লকজন নিয়ে এসে আমাদের বিল্ডিংয়ের উপর আক্রমন করেছে। ঘরের বিতরে এসে আমার উপর হামলা চালায়। এসময় আমাদের ঘরে থাকা ৮০ হাজার টাকা, আমার গলার চেইন নিয়ে গেছে। আমার ফোন নিয়ে গেছে পরে আমার ভাশুর সাহেদ চৌধুরী ফোন উদ্দার করে দিছে। এসময় উনাকে ও মারতে দরছে।

ঘটনার সত্যতা শিকার করে সাহেদ চৌধুরী বলেন, একটা মহিলার চিৎকার করে বলতেছে আমাকে বাছাও বাছাও, আমার মান সম্মান বাছাও। তখন আমি নিজ ঘরের শয়নকক্ষে ছিলাম। চিৎকারের আওয়াজ শুনে এসে দেখি আমার ছোট ভাইর বউ কাকুলি চিৎকার করতেছে। তখন দেখি কিছু অল্প বয়সি পোলা পাইন এরা তাদের ঘর ভাংচুর করতেছে। এসময় আমি ওদেরকে বলি যা করার চেয়ারম্যান মেম্বার করবে তোমরা এগুলো করো না। এটা বলার পর তারা আমার উপর আক্রমন করে আমাকে চাইনিজ কুরাল দিয়ে একটা কোপ দিছে, কিন্তু আমি সরে যাওয়াতে আমার গায়ে কোপটা লাগে নাই। পরে আমার শোর চিৎকারে এলাকাবাসি এগিয়ে এসে ওদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করছে।

এবিষয়ে স্থানীয় সমাজপতি মোঃ মিহির মেম্বার জানান, আজকের বিষয়টা পুরো অমানবিক একটা বিষয়। অমানবিক এই কারনে যে, কারন ওর ঘর থেকে এখনো ৫/৬ পিট জায়গা খালি আছে। এটা তার পুরাতন ঘরের বারিনদা। এই বিটির জন্য মাহবুবল হক চৌধুরী আমার মাধ্যমে এই বাড়িতে সালিশী বৈঠক বসিয়েছিল। তখন উনি আমাকে বলছে টিটুর থেকে ৩/৪ ফুট জায়গা নিয়ে দাও। জবাবে আমি বলছি টিটু চৌধুরীর সাথে কথা বলে দেখি উনি কি বলে। টিটু বলছিলো আমার এখান থেকে ৩ ফুট নিলে আমাকে অন্য এক জায়গা দিয়ে দিলে হবে। তার পরে অনেক ঠেলা ঠেলির পরে মাহবুবল হক বলছে জায়গা দিয়ে জায়গা নিবে না। উনি বলছে টিটুকে ২ লক্ষ টাকা দিবে। এর আগেও তারা এই নিরিহ লোকটির উপর অনেকবার হামলা, মামলা চালিয়ে লোকটিকে হয়রানি করেছে। আজকে আবারও বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে তার নতুন বিল্ডিংয়ের বারেন্দা, জানালার থাই গ্লাস ভাংচুর করে ঘরে থাকা মহিলাদের উপর হামলা করেছে। আমরা এলাকাবাসি এই ধরণের নেক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।

ঘটনার সত্যতা শিকার করে ২নং সুন্দলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী মো: ইলিয়াছ মুঠোফোনে জানান, তারা আমার কাছে একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাদেরকে একটি শালিসী বৈঠকের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই তারা বহিরাগত লোক এনে টিটুর বসত ঘর ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এসে দুজনকে আটক করেছিল। পরে কবিরহাট থানার ওসি আটককৃত দুজনকে আমার জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে। পুনরায় একটি শালিসী বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি উভয় পক্ষকে কাগজপত্র জমা দিতে বলছি। কাগজপত্র জমা দিলে বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।