ArabicBengaliEnglishHindi

এর চেয়ে হেফাজতও তো ভালো: কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক 


প্রকাশের সময় : মার্চ ২৯, ২০২২, ১০:৫০ অপরাহ্ন / ৫৪
এর চেয়ে হেফাজতও তো ভালো: কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক 
এনামুল হক শামীম ->>
বাংলাদেশ আওয়ামী  সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কেমন হরতাল হয়েছে ভাই? এর চেয়ে হেফাজতও তো ভাল, হেফাজত তো তাও মতিঝিলে বিরাট সমাবেশ করতে পারে।
সোমবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সামনে রোজা আসছে, এই রোজাকে কেন্দ্র করে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টি কিছু বামপন্থী নেতারা আজ হরতাল দিয়েছে। তাদের সমর্থন দিয়েছে বিএনপি ও ভুঁইফোড় কিছু রাজনৈতিক দল। টাঙ্গাইল, জামালপুর, ময়মনসিংহ কিংবা চিটাগং এর কথা বাদই দিলাম। ঢাকা শহরেও তো একটা মানুষকে দেখলাম না যে হরতালের পক্ষে কথা বলে। মানুষ নির্বিঘ্নে কাজ করছে।আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যতোই হরতাল করেন, যতোই রেল লাইন তোলেন, বিদ্যুতের লাইন কাটেন। এখন আর বাংলাদেশে বিদ্যুতের লাইন কাটতে পারবেন না।কোন হরতাল হবে না। আর এই নির্বাচন কমিশন দ্বারা নির্বাচন হবে। কেউ যদি এই নির্বাচন বিঘ্নিত করতে চায় আমরা অবশ্যই মোকাবেলা করবো।
তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিশ্রতি দিয়েছিলাম বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবো, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করবো। আইসিটি খাত তথা বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করবো। আমরা ২০১৩ সালে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেছিলাম, এর পর প্রথম, দ্বিতীয় ও মেয়াদ মিলে ১৩ বছরে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আমরা পালন করেছি। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল ২০০০ থেকে ২০০৬ তখন এই দেশটার অর্থনীতি ভেঙ্গে পরেছিল। মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির বিভিন্ন নেতারা বলেন, গুম হয়েছে খুন হয়েছে। আমরা গত ১৩ বছরে আমার জেলা টাঙ্গাইলে বিএনপির কোন নেতাকেই আমরা হয়রানি করি নাই। তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি নাই।
মন্ত্রী বলেন, কিছু খাদ্য শষ্যের দাম বেড়েছে, এটা আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু আমি আপনাদের বলতে চাই সারা বাংলাদেশে আমাদের নেত্রী কি বসে আছেন? আমরা কি ব্যবস্থা নিচ্ছি না? আমরাও ওএমএসএ চাল দিচ্ছি। আমরা বিজিএফ দিচ্ছি, ১০ টাকা কেজি ৫০ লক্ষ পরিবার ৫ জন করে হলেও আড়াই কোটি মানুষকে আমরা ১০ টাকা কেজিতে চাল দিচ্ছি। দম কেন বাড়ছে? আন্তর্জাতিক বাজারে ১ টন সয়াবিনের দাম ছিল ৬০০ ডলার। সেটি হলো আজ ১৮০০ ডলার। জাহাজের ভাড়া ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার। তা এখন ১৮০০ থেকে ২ হাজার ডলার। ৯০ ভাগ ভোজ্য তেল সয়াবিন, পামওয়েল বিদেশ থেকে আনতে হয়। এটা প্রাইভেট সেক্টর আনে। আমি বললেই তো তারা দাম কমাবে না। তারা তো দাম কমাবে না। সরকার চেষ্টা করছে। এক কোটিরও বেশী মানুষকে আমরা তেল, ডাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আগামিতেও নেতৃত্ব দিবেন। আগামিতে নির্বাচন হবে। যে কমিশন গঠন করা হয়েছে, সেই কমিশনের তত্ত্বাবধানেই নির্বাচন হবে। বেগম খালেদা জিয়া, ফখরুল ইসলাম আলমগীররা দেশের মানুষকে বিশ্বাস করে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার প্রান্তরে প্রান্তরে ঘুরে বেরিয়েছি জীবন বাজি রেখে। সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্তানের অনেক আদর আপ্যায়নে ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। সেই পাকিস্তানিকে এনেও যদি বায়লাদেশে নির্বাচন কমিশন করা যায় তাহলে হয়তো বিএনপি বিশ্বাস করবে যে বাংলাদেশে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
সব শেষে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে ফারুক হাসান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও ১ নং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মো. শাহাদাত হোসেন খানের নাম ঘোষণা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুহ সোবহান গোলাপ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক সামসুনন্নাহার চাপা ও বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ও ঢাকা ২০ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য এবি এম রিয়াজুল কবির কাওছার, আনোয়ার হোসেন, শাহাব উদ্দিন ফরাজী ও প্রধান বক্তা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সহ আরও অনেকে।
উক্ত সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফিরোজ কবির সহসভাপতি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ, হাজী মোঃ আব্দুল গনি সভাপতি সাভার পৌর আওয়ামী লীগ, মোঃ আশরাফ হোসেন চৌধুরী মাসুদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ, মঞ্জুরুল আলম রাজীব সাধারণ সম্পাদক সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যান সাভার উপজেলা পরিষদ, মোঃ নজরুল ইসলাম মানিক মোল্লা সাধারণ সম্পাদক সভার পৌর আওয়ামী লীগ, মোঃ কবির হোসেন সরকার আশুলিয়া থানা আওয়ামী যুবলীগ, মোঃ শাহাব উদ্দিন মাদবর চেয়ারম্যান আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও সভাপতি আশুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, আলহাজ্ব সৈয়দ আহম্মেদ মাস্টার চেয়ারম্যান ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদ, এ বি এম আজাহারুল ইসলাম সুরুজ চেয়ারম্যান শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, মোঃ পারভেজ দেওয়ান চেয়ারম্যান পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সহ সাভার থানা, আশুলিয়া থানা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।